বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার ‘নিন্দনীয়’

 


বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন নিয়ে ফের সরব আমেরিকা, নজর রাখছে ওয়াশিংটন
ভারত সফরে এসে আমেরিকায় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন নিয়ে ‘উদ্বেগপ্রকাশ’ করেছিলেন আমেরিকার গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গাবার্ড। কিন্তু তুলসীর বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করে ইউনূস সরকার।


বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ‘অত্যাচার’ নিয়ে আবারও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এই বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সে দিকেও নজর রাখার বার্তা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবে।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “যে কোনও দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর হিংসা বা অসহিষ্ণুতার ঘটনা আমরা সমর্থন করি না এবং এর নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যদি সে দেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়, তবে আমরা তাকে স্বাগত জানাব। আমরা বাংলাদেশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।”

মার্কিন প্রশাসনের এমন বার্তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, এর আগেও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে আমেরিকা একাধিকবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। এবারও বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

গত সপ্তাহেই ভারত সফরে এসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান তুলসী গাবার্ড। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ক্যাথলিক-সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। হত্যা, হেনস্থা এবং ধর্মীয় নিপীড়ন ক্রমশ বেড়েই চলেছে, যা আমেরিকা সরকার, বিশেষ করে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনার প্রাথমিক ধাপ শুরু করেছে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

তুলসী গাবার্ডের এই মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, “গাবার্ড কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করেননি। এটি বিভ্রান্তিকর।” বাংলাদেশের সরকার আরও জানিয়েছে, দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঢাকার মতে, আমেরিকার তরফ থেকে বারবার এই ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করা মোটেও স্বাভাবিক নয় এবং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। যদিও ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা সবসময় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার পক্ষে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনও ঘটনাকে সমর্থন করবে না।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে নানা সময়ে সরব হয়েছে। তবে এই নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা চাই না কোনও দেশ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক। তবে, আমরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য যে পদক্ষেপ নিচ্ছি, তা বিশ্ববাসীকে জানানো হবে।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ঘটনা এবং মার্কিন প্রতিক্রিয়া নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বেড়েছে। আমেরিকা যে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের দাবি, তারা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে শেষ হবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

*

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post